যৌন হেনস্থার শিকার কি শুধু মেয়েরাই, পুরুষদের নীরব যন্ত্রণা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রাজকের রিপোর্টে

যৌন হেনস্থা মানেই সাধারণত নারী নির্যাতনের চিত্র ভেসে উঠলেও বাস্তব পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ, তা স্পষ্ট করল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রাজক’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট। শনিবার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উঠে এসেছে এক অস্বস্তিকর সত্য— আমাদের চারপাশের অনেক ছেলেই নিয়মিত যৌন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তবে সামাজিক কাঠামো ও ‘পুরুষত্বের’ ভ্রান্ত ধারণার চাপে সেই আর্তনাদ চার দেওয়ালের বাইরে পৌঁছায় না বললেই চলে। লোকলজ্জা আর অবিশ্বাসের ভয়ে অধিকাংশ নির্যাতিতই নীরবতা বজায় রাখতে বাধ্য হন।
সামাজিক বাধা ও আইনি জটিলতা
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ শতাংশ ছেলে জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করা হয়। শিশু সুরক্ষা কমিশনের কর্তাদের মতে, পকসো আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব এর অন্যতম কারণ। এমনকি যাদবপুরের ছাত্র মৃত্যুর মতো হাই-প্রোফাইল কেসেও প্রাথমিকভাবে পকসো ধারা যুক্ত করতে অনীহা দেখা গিয়েছিল। এই আইনি উদাসীনতা ও সামাজিক বিচারহীনতার কারণেই নির্যাতিতরা মুখ খোলার সাহস পান না, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে তুলছে।
সচেতনতার অভাব ও প্রতিকারের পথ
পরিবার, স্কুল কিংবা খেলার মাঠ— সব জায়গাতেই ছেলেরা অরক্ষিত। বিশেষ করে ‘ব্লু আমব্রেলা ডে’ উপলক্ষে চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বহু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শৈশবে নিগৃহীত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও জনসমক্ষে তা বলতে চাননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন দিয়ে এই সমস্যা মিটবে না। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা ও ‘পজিটিভ পেরেন্টিং’ অত্যন্ত জরুরি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বর্তমানে শিশু সুরক্ষা কমিশন একটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এক ঝলকে
- স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রাজকের রিপোর্টে ছেলেদের যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এসেছে।
- সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও লোকলজ্জার কারণে প্রায় ৯৭ শতাংশ নিগ্রহের ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়।
- শিশু সুরক্ষা কমিশন ছেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগ জানাতে দ্রুত হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
- পকসো আইনের প্রয়োগ এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই এই নীরব মহামারি রুখতে প্রধান হাতিয়ার হতে পারে।