সন্তানদের পর্নোগ্রাফি দেখিয়ে যৌন হেনস্থা, লেকটাউনে গ্রেপ্তার মা!

বাংলার চিরাচরিত ‘কুমাতা কদাপি নয়’ প্রবাদকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে নিজের ১০ বছরের যমজ সন্তানকে যৌন হেনস্থা ও অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক মহিলা। অভিযুক্ত ওই নারী সল্টলেকের এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী এবং বর্তমানে লেকটাউনের বাসিন্দা। বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকাকালীন দুই নাবালক সন্তানের ওপর এই চরম নৃশংসতা চালিয়েছেন তিনি বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মাসে অন্নপূর্ণা পুজোর সময় দুই সন্তান বাবার কাছে গিয়ে মায়ের এই ‘কীর্তি’ ফাঁস করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
যৌন হেনস্থা ও অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলা তার দুই ছেলেকে জোর করে মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখাতেন এবং তাদের নগ্ন ছবি তুলে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করতে বাধ্য করতেন। সন্তানদের বশ করতে কখনও খেলনার প্রলোভন দেখাতেন, আবার কখনও লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করতেন। এমনকি ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং অপরিচিত পুরুষের সামনে সন্তানদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির মতো ভয়ানক অভিযোগও জমা পড়েছে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক সন্তান আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল বলে দাবি করেছেন তার বাবা।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি ধারা
ঘটনাটি জানতে পেরে গত ৩১ মার্চ লেকটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিশুদের বাবা। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৪, ৮, ১২ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে। গত ৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নাবালক দুই ভাই তাদের বাবার আশ্রয়ে নিরাপদ রয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের ওপর এমন পাশবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তাদের দীর্ঘমেয়াদী ট্রমার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সমাজের রক্ষাকর্তা হিসেবে মায়ের এমন ভূমিকা পারিবারিক কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। বর্তমানে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) তত্ত্বাবধানে শিশুদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্ত জারি রয়েছে।
এক ঝলকে
- লেকটাউনে ১০ বছরের যমজ সন্তানকে যৌন হেনস্থা ও পর্নোগ্রাফি দেখানোর অভিযোগে জন্মদাত্রী মা গ্রেপ্তার।
- সন্তানদের নগ্ন ছবি তোলা, মারধর এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের।
- অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
- বর্তমানে অভিযুক্ত মহিলা জেল হেফাজতে আছেন এবং শিশুরা তাদের বাবার কাছে সুরক্ষিত।