বেহালায় ইডি-র রুদ্ধশ্বাস অভিযান: কুকুর লেলিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা, এক ঘণ্টা পর খুলল প্রোমোটারের বাড়ির দরজা!

রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বেহালার জ্যোতিষ রায় রোড এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) একদল আধিকারিক ‘সান কনস্ট্রাকশন’-এর মালিক জয় কামদারের বাড়িতে হানা দেন। মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতির অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জয় কামদারকে দুই বার তলব করলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তল্লাশিতে বাধা ও নাটকীয় পরিস্থিতি
তদন্তকারী আধিকারিকরা যখন জয় কামদারের বাসভবনে পৌঁছান, তখন সেখানে এক চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দিতে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের দিকে পোষ্য কুকুর লেলিয়ে দেন। এই অচলাবস্থার কারণে আধিকারিকদের দীর্ঘ এক ঘণ্টা দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। কোনোভাবেই সহযোগিতার পরিবেশ না থাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।
বিশেষ পরিকল্পনায় রবিবাসরীয় অভিযান
সাধারণত ইডির তল্লাশি অভিযান ছুটির দিনে বা রবিবারে দেখা যায় না, তবে এই ক্ষেত্রে তারা এক বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা ছিল যে, কাজের দিনে অভিযানের খবর আগেভাগে পেয়ে অভিযুক্ত গা ঢাকা দিতে পারেন। জয় কামদারকে বাড়িতে সরাসরি নাগালে পেতেই এই রবিবাসরীয় ঝটিকা অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রোমোটিং সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখাই এখন আধিকারিকদের প্রধান লক্ষ্য।
এক ঝলকে
ব্যবসায়িক লেনদেনে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এই বিশেষ তদন্ত।
বেহালার জ্যোতিষ রায় রোডে প্রোমোটিং ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে ইডি অভিযান।
ইডি আধিকারিকদের প্রবেশ আটকাতে কুকুর লেলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
দুই বার সমন এড়ানোর পর জয় কামদারের বাড়িতে অতর্কিত হানা।