“৪ মে-র পর কেউ বাঁচবে না, ২৯ এপ্রিলের মধ্যে আত্মসমর্পণ করুন”: বড়জোড়া থেকে তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি মোদীর!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে পশ্চিমবঙ্গে ঝোড়ো প্রচারে নেমে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় দিনের প্রথম নির্বাচনী সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজ রুখতে হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া সংলগ্ন এলাকার বালি, কয়লা ও পাথর মাফিয়াদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাণ্ডিগুলোতে তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ চলায় আলু চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না এবং ক্রমাগত শোষিত হচ্ছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট ব্যবস্থার ‘পারমানেন্ট সার্জারি’ বা স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ
তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলার মহিলারা যাতে বেশি সংখ্যায় বিধায়ক ও সাংসদ হতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করেছে। বাংলার নারীরা তৃণমূলের তথাকথিত ‘জঙ্গলরাজ’কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বলেই শাসকদল মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন চাইছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোট পরবর্তী পরিণতির ইঙ্গিত
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অপরাধীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মোদী সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে অভিযুক্তদের নিজেদের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করা উচিত। এর মাধ্যমে তিনি রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার পরিবর্তন এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্তরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও সিন্ডিকেট চালকদের ২৯ এপ্রিলের মধ্যে আত্মসমর্পণের চরম সময়সীমা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষি ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যৌথ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন নরেন্দ্র মোদী।
- ৪ মে-র পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।