লক্ষ্মীলাভের মোক্ষম সুযোগ! অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা-রুপো কেনার শুভ মুহূর্ত ও পুজোর নিয়ম জেনে নিন

আজ অক্ষয় তৃতীয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনে সোনা বা রুপো কেনাকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে মূল্যবান ধাতু ক্রয় করলে এবং যথাযথ শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে সারা বছর সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও ধন-সম্পদ অক্ষয় থাকে। বিশেষত আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত—সব মহলেই আজ কেনাকাটার ধুম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লগ্ন ও কেনাকাটার শুভ সময়
পঞ্জিকা ও জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, আজ কেনাকাটার জন্য বেশ কয়েকটি প্রশস্ত মুহূর্ত রয়েছে। সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত শুভ। এছাড়া অপরাহ্ণে ২টো ১৩ মিনিট থেকে ৩টে ৪৭ মিনিট এবং সন্ধ্যার পর ৬টা ৫৭ মিনিট থেকে রাত ১১টা ১২ মিনিট পর্যন্ত কেনাকাটার জন্য বিশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নির্দিষ্ট এই শুভ সময়ে কেনাকাটা করা আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রশান্তির সহায়ক।
শাস্ত্রীয় নিয়ম ও দানধ্যানের গুরুত্ব
সোনা বা রুপো কেনার পর তা সরাসরি সিন্দুকে না রেখে প্রথমে গঙ্গাজলে শুদ্ধ করে দেবী লক্ষ্মীর চরণে অর্পণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুরোহিতরা। পুজো শেষে লাল কাপড়ে মুড়ে সিন্দুকে রাখলে তার ফল স্থায়ী হয়। তবে কেবল কেনাকাটা নয়, অক্ষয় তৃতীয়ার পূর্ণ ফল লাভে দানধ্যানের ভূমিকা অপরিসীম। দরিদ্রদের ছাতা, জলভর্তি কলসি বা খাদ্যসামগ্রী দান করলে পুণ্য লাভ হয় বলে মনে করা হয়। সামর্থ্য না থাকলে সোনার বদলে রুপো কেনাও এই দিনে সমপরিমাণ শুভ ফলদায়ক।
এক ঝলকে
- অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে সোনা ও রুপো কেনায় সারা বছর সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলে বিশ্বাস।
- সকাল, দুপুর এবং রাত মিলিয়ে আজ কেনাকাটার জন্য রয়েছে একাধিক শুভ মাহেন্দ্রক্ষণ।
- ক্রয়কৃত ধাতু গঙ্গাজলে শুদ্ধ করে লক্ষ্মী-নারায়ণের চরণে অর্পণ ও পুজোর বিশেষ বিধান রয়েছে।
- আধ্যাত্মিক ফল পূর্ণ করতে কেনাকাটার পাশাপাশি দরিদ্রদের জল বা খাদ্য সামগ্রী দানের গুরুত্ব অপরিসীম।