মানুষ নাকি পেঁচা? ৬২ বছর ধরে ঘুমাননি এই কৃষক, এক সেকেন্ডের জন্য চোখের পলকও ফেলেননি

এক রাত ঘুম না হলেই যেখানে সাধারণ মানুষের শরীর ভেঙে পড়ে, সেখানে দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এক সেকেন্ডের জন্যও চোখের পাতা এক করেননি ভিয়েতনামের কৃষক থাই নগোক। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের দাবি, ১৯৬২ সালে একটি তীব্র জ্বরের পর থেকে তাঁর ঘুম চিরতরে উধাও হয়ে গেছে। গত ৬২ বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় দিনরাত অতিবাহিত করছেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রচলিত সমস্ত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
অসুস্থতা থেকে অনিদ্রার শুরু
ভিয়েতনামের কুয়াং নাম প্রদেশের বাসিন্দা থাই নগোকের এই অদ্ভুত জীবনের শুরু ২০ বছর বয়সে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের চক্র নষ্ট হয়ে যায়। ঘুমের জন্য তিনি দেশি-বিদেশি ওষুধ থেকে শুরু করে মদ্যপান পর্যন্ত নানা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো কিছুই তাঁকে সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন করতে পারেনি। তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা কখনও এই বৃদ্ধকে ঘুমাতে দেখেননি। এমনকি আন্তর্জাতিক ইউটিউবাররা সারারাত তাঁর সাথে অবস্থান করেও তাঁকে এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করতে দেখেননি।
বিজ্ঞানকে হার মানানো শারীরিক সক্ষমতা
সাধারণত পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানুষের মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু নগোকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ৮১ বছর বয়সেও তিনি দিব্যি কৃষিকাজ করছেন এবং ভারী বোঝা বহন করছেন। চিকিৎসকরা তাঁর রক্তচাপ, হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে বড় কোনো অসংগতি পাননি। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তিনি হয়তো অবচেতনভাবে কয়েক সেকেন্ডের ‘মাইক্রো-স্লিপ’ বা অতি ক্ষুদ্র ঝিমুনি দেন যা সাধারণের চোখে পড়ে না। তবে দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা সত্ত্বেও তাঁর কর্মক্ষম থাকাটা আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ভিয়েতনামের ৮১ বছর বয়সী কৃষক থাই নগোক টানা ৬২ বছর ধরে নির্ঘুম জীবন কাটাচ্ছেন।
- ১৯৬২ সালে একটি প্রচণ্ড জ্বরের পর থেকে তাঁর স্বাভাবিক ঘুম চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
- ঘুমহীন শরীর নিয়েও তিনি প্রতিদিন কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও চাষবাস চালিয়ে যাচ্ছেন।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা প্রাণঘাতী হলেও তাঁর ক্ষেত্রে কোনো বড় শারীরিক জটিলতা ধরা পড়েনি।