যৌতুকের লোভে বাইকের বদলে বুলেট দাবি, বিয়ের আসরেই গণপিটুনি খেয়ে শ্রীঘরে বর

যৌতুকের লোভে বাইকের বদলে বুলেট দাবি, বিয়ের আসরেই গণপিটুনি খেয়ে শ্রীঘরে বর

উত্তরপ্রদেশের আমেঠি জেলার কেশরিয়া সালিমপুর গ্রামে ১৭ মে একটি বিয়েবাড়ির আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রায়বরেলী থেকে আসা বর মোহাম্মদ আমির বিয়ের আসরে হঠাৎই সাধারণ বাইকের বদলে দামী ‘বুলেট’ মোটরসাইকেলের দাবি তোলেন। কনেপক্ষ তৎক্ষণাৎ ২ লক্ষ টাকার চেক দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বর ও তাঁর পিতা নাছোড়বান্দা ছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, হাতে হাতে বুলেট না পেলে কোনোভাবেই কনে বিদায় করা হবে না। এই অন্যায্য দাবি এবং এর পরবর্তী অসভ্যতা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

যৌতুকের দাবি ও চরম পরিণতি
বরের একগুঁয়েমিতে অতিষ্ঠ হয়ে কনের বাবা যখন চেক প্রদান করেন, তখন বর ও তাঁর পিতা সেই চেক ছিঁড়ে ফেলেন এবং কনেপক্ষকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এই অশালীন আচরণ দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কনের বাড়ির সদস্য ও গ্রামবাসীরা। এরপরই শুরু হয় নাটকীয় মোড়—গ্রামবাসীরা জোটবদ্ধ হয়ে বর ও তাঁর পিতাকে জিম্মি করেন। যৌতুকলোভী বরকে রীতিমতো গণপিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কনে নিজেই জানিয়ে দেন, এমন লোভী পরিবারে তিনি সংসার করতে যাবেন না।

আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক প্রভাব
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি দশা থেকে বরপক্ষকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কনেপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বর ও তাঁর বাবাসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে বরের অভিযোগের ভিত্তিতে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে মারধরের মামলাও নথিভুক্ত হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক ভারতেও যৌতুকের অভিশাপ যে কত গভীর, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে কনের সাহসিকতা এবং গ্রামবাসীদের রুখে দাঁড়ানো যৌতুকলোভীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বাইকের বদলে দামী ‘বুলেট’ মোটরসাইকেলের দাবি জানানোয় পণ্ড হলো বিয়ের আসর।
  • ২ লক্ষ টাকার চেক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে বর ও তাঁর পিতাকে গণপিটুনি দিয়ে জিম্মি করে রাখে গ্রামবাসী।
  • যৌতুকলোভী বরের বাড়িতে যেতে স্পষ্ট অস্বীকার করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন কনে।
  • পুলিশ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং বরের পরিবারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *