৩০ বছর পর ফাঁস হলো চরম পারিবারিক গোপনীয়তা! ভাইকে বাবা আর বাবাকে দাদু হিসেবে জানবে মেয়ে

তিন দশক ধরে সযত্নে লালন করা একটি পারিবারিক গোপনীয়তা ফাঁস হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এক নারী সম্প্রতি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তাঁর ৩০ বছর বয়সী মেয়ের আসল পরিচয় নিয়ে এমন এক অবিশ্বাস্য সত্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে যা কল্পনাকেও হার মানায়। সম্পর্কের এই জটিল গোলকধাঁধায় ওই তরুণী যাকে সারা জীবন ‘বড় ভাই’ হিসেবে জেনে এসেছেন, তিনিই আসলে তাঁর জন্মদাতা পিতা। অন্যদিকে, যাঁকে তিনি বাবা বলে ডাকতেন, রক্তের সম্পর্কে তিনি আদতে তাঁর দাদু।
বংশ রক্ষায় বিচিত্র সিদ্ধান্ত
এই ঘটনার মূলে রয়েছে এক অদ্ভুত পারিবারিক পরিকল্পনা। বিয়ের পর সন্তান নিতে গিয়ে ওই নারী জানতে পারেন তাঁর স্বামীর পূর্বের একটি অস্ত্রোপচারের কারণে সন্তান ধারণ সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় বংশের ধারা বজায় রাখতে তাঁরা কোনো স্পার্ম ব্যাংকের সাহায্য না নিয়ে স্বামীর আগের পক্ষের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের দ্বারস্থ হন। ছেলের সম্মতিতে কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণ করেন ওই নারী। এই সিদ্ধান্তের কারণেই সম্পর্কের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়, যা দীর্ঘ ৩০ বছর ওই তরুণীর কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।
নৈতিকতা ও সংকটের মুখে পরিবার
দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে ওই দম্পতি চরম মানসিক দোটানায় পড়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের কাছে এই চাঞ্চল্যকর সত্য কীভাবে প্রকাশ করবেন, তা নিয়ে তাঁরা গভীর আতঙ্কিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সত্য গোপন করার এই সংস্কৃতি সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে। অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে পুরো বিষয়টি মেয়ের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনাটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় নৈতিকতা, বংশগত আভিজাত্য এবং সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এক ঝলকে
- স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁর আগের পক্ষের ছেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে সন্তান ধারণ করেন ওই নারী।
- ৩০ বছর ধরে তরুণীর কাছে তাঁর আসল বাবার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল।
- সম্পর্কে যাঁর বড় ভাই হওয়ার কথা, তিনিই তরুণীর জন্মদাতা পিতা এবং বর্তমান বাবা আসলে সম্পর্কে দাদু।
- দীর্ঘ সময় পর এই সত্য জানাজানি হওয়ায় ওই পরিবারে চরম মানসিক ও নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।