নারীদের হার্ট অ্যাটাক কি কেবলই বুকে ব্যথা নাকি আড়ালে থাকা অন্য কোনো মারণ সংকেত! জানুন ৮টি লুকানো লক্ষণ

হার্ট অ্যাটাক মানেই কেবল বুকে তীব্র ব্যথা—এমন ধারণা এখন সেকেলে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, হৃদরোগের লক্ষণ নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই মারণব্যাধি অনেক সময় অত্যন্ত নীরবে এবং ভিন্ন আঙ্গিকে হানা দেয়। প্রচলিত লক্ষণের বাইরে যাওয়ার কারণে অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন না, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
লক্ষণ যখন সাধারণ অসুস্থতার আড়ালে
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে অন্যতম বিভ্রান্তিকর লক্ষণ হলো পেটে অস্বস্তি ও বমি ভাব। অনেক সময় একে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা বদহজম ভেবে অবহেলা করা হয়। এ ছাড়া, কোনো কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করা হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার আগাম সংকেত হতে পারে। পুরুষদের মতো বাম হাতে ব্যথা হওয়ার বদলে নারীদের ক্ষেত্রে ব্যথা চোয়াল, ঘাড় কিংবা পিঠের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
হঠাৎ শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘামতে থাকা, মাথা ঝিমঝিম করা কিংবা তীব্র উদ্বেগ ও অনিদ্রা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নারীরা প্রায়ই এই সংকেতগুলোকে দৈনন্দিন কাজের চাপ বা মানসিক দুশ্চিন্তা বলে এড়িয়ে যান। শরীরের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো চিনতে পারা এবং দ্রুত ইসিজি বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়। সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে অকাল মৃত্যু প্রতিরোধের একমাত্র পথ।
এক ঝলকে
- পুরুষদের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে চোয়াল, ঘাড় এবং পিঠে ব্যথা বেশি দেখা দেয়।
- প্রচণ্ড ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং পেটে অস্বস্তি বা বমি ভাব নারীদের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সতর্কবার্তা।
- বুক ব্যথার পাশাপাশি ঠান্ডা ঘাম হওয়া এবং কারণ ছাড়াই মাথা ঘোরাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
- দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে জীবন রক্ষা করা সম্ভব।