১০ মাসের শিশুকন্যা জীবন বাঁচিয়ে গেল ৫ জনের! সন্তান হারানোর শোক অতিক্রম করে বিরাট সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের

কেরলের পাথানামথিট্টা জেলার এক শোকাতুর পরিবার ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে ছাপিয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মাত্র ১০ মাস বয়সে প্রাণ হারানো শিশু আলিন শেরিন আব্রাহামের অঙ্গদানের সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার বাবা-মা। শোকের পাহাড় বুকে নিয়েও তাঁদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের ফলে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার সুযোগ পেল আরও পাঁচটি শিশু।
শোকাতুর বাবা-মায়ের মহৎ সিদ্ধান্ত
গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় আলিন ও তার পরিবার গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোট্টায়মের অমৃতা হাসপাতালে আলিনকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করার পর তার পরিবার ভেঙে না পড়ে মানবিকতার পরিচয় দেয়। আলিনের লিভার, দুটি কিডনি, হার্ট ভালভ এবং দুটি কর্নিয়া দান করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ছ’মাস বয়সী এক শিশু লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছে, যা রাজ্যের অঙ্গদানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রাপকের নজির।
অঙ্গদান ও জনসচেতনতার প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্গদান প্রক্রিয়াটি জীবিত অবস্থায় বা ব্রেন ডেথ-এর পরে সম্ভব। আলিনের ক্ষেত্রে ব্রেন ডেথ নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সম্মতিতে অঙ্গগুলো সংগ্রহ করা হয়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই ঘটনাটি অঙ্গদান নিয়ে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- কেরলের ১০ মাসের শিশু আলিন শেরিন আব্রাহাম অঙ্গদানের মাধ্যমে ৫ জনকে জীবনদান করল।
- দুর্ঘটনায় মৃত শিশুর লিভার, কিডনি, হার্ট ভালভ ও কর্নিয়া সফলভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
- ৬ মাস বয়সী এক শিশু আলিনের লিভার পেয়ে রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ প্রাপক হিসেবে নতুন জীবন পেল।
- শোকের মুহূর্তেও এমন সাহসী সিদ্ধান্ত অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তা ও সচেতনতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।