গ্যাস সংকটে কাজ হারিয়ে দিশেহারা শ্রমিকদের ঢল, সুরাটে ফিরল ভয়াবহ পরিযায়ী স্মৃতি!

গুজরাটের সুরাট এখন এক গণ-প্রস্থানের সাক্ষী। রবিবার সুরাটের উধনা রেলওয়ে স্টেশনে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারগামী শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সরবরাহে টান পড়ায় সুরাটের বেশ কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় হাজার হাজার শ্রমিক তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের গ্রামে।
তীব্র ভিড়ে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের লাঠিচার্জ
রবিবার সকাল থেকে উধনা স্টেশনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের সিট দখল করার আশায় হুড়োহুড়ি শুরু করলে তৈরি হয় পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি। বিশৃঙ্খলা থামাতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। দুপুরের মধ্যে বিশেষ ট্রেনগুলোতে চড়ে প্রায় ২১ হাজার মানুষ শহর ত্যাগ করলেও ভিড়ের চাপ কমেনি। স্টেশনে অপেক্ষমাণ এক শ্রমিকের কান্নার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায় যে, তিনি আর কোনোদিন এই শহরে ফিরবেন না।
শিল্পে মন্দা ও ছুটির জোড়া প্রভাব
প্রশাসন দেশে জ্বালানি বা গ্যাসের ঘাটতি নেই বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাব অনেক উৎপাদনমুখী সংস্থাকে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সময়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ও যুক্ত হয়েছে। কর্মহীনতা এবং পরিবারের কাছে ফেরার তাড়না—এই দুইয়ের চাপে সুরাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাণিজ্যিক এলপিজি সংকটের প্রভাবে সুরাটের বেশ কিছু কারখানা বন্ধ।
- কাজ হারিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার শ্রমিকের আকস্মিক ভিড়।
- উধনা রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন ও পুলিশ।
- জ্বালানি সংকট ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি—উভয় কারণে সুরাটে এক অস্বাভাবিক গণ-অভিবাসন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।