মোমোই হলো কাল! স্মৃতিশক্তি হারিয়ে হাসপাতালের আইসিইউ-তে ১০ বছরের শিশু

মোমোই হলো কাল! স্মৃতিশক্তি হারিয়ে হাসপাতালের আইসিইউ-তে ১০ বছরের শিশু

ফাস্ট ফুড বা রাস্তার ধারের মুখরোচক খাবার এখন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস যখন আসক্তিতে রূপ নেয়, তখন তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার প্রমাণ দিল দক্ষিণ দিল্লির বুরারির বাসিন্দা দশ বছরের শিশু তানিয়া। মাত্র ১০ বছর বয়সেই রাস্তার মোমো খাওয়ার নেশায় সে আজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে তার লিভার বা যকৃৎ বিকল হয়ে পড়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও নজরদারির অভাব

তানিয়ার বাবা-মা দুজনেই কর্মজীবী হওয়ার কারণে দিনের দীর্ঘ সময় তানিয়া ও তার আট বছরের বোন গৌরী বাড়িতে একা থাকত। তানিয়ার দাদু তাকে যে হাতখরচ বা পকেট মানি দিতেন, তা দিয়ে সে প্রতিদিন স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে মোমো কিনে খেত। বাড়িতে বড়দের কড়া নজরদারি না থাকায় বিষয়টি কারোর নজরে আসেনি। দিনের পর দিন এই অনিয়মই তার শরীরের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

স্মৃতিভ্রম ও রোগের ভয়াবহ বিস্তার

অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তানিয়ার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। সে ছোটখাটো বিষয় ভুলে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, সে হাঁটাচলার ক্ষমতা হারায় এবং শেষ পর্যন্ত নিজের চারপাশের পরিচিত মানুষদেরও চিনতে পারছিল না। আতঙ্কিত অভিভাবকরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তানিয়া ‘অ্যাকিউট লিভার ফেইলিওর’-এ আক্রান্ত। যকৃৎ বিকল হয়ে যাওয়ায় শরীরে বিষাক্ত টক্সিন জমে তার মস্তিষ্কে প্রদাহ তৈরি হয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি’ বলা হয়। এই কারণেই শিশুটি তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও বর্তমান পরিস্থিতি

সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করায় তানিয়াকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আর সামান্য দেরি হলে হয়তো লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা যকৃৎ প্রতিস্থাপন ছাড়া কোনো উপায় থাকত না। দিল্লির শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশুর মধ্যে ‘ফ্যাটি লিভার’-এর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা ফাস্ট ফুডের নেশা, মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবকে দায়ী করছেন।

একঝলকে

  • আক্রান্ত শিশু: দক্ষিণ দিল্লির বুরারির ১০ বছর বয়সী তানিয়া।
  • মূল কারণ: নিয়মিত রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর মোমো খাওয়ার আসক্তি।
  • শারীরিক ক্ষতি: লিভার বিকল হওয়া এবং মস্তিষ্কে বিষাক্ত টক্সিন ছড়িয়ে পড়া।
  • উপসর্গ: স্মৃতিশক্তি হারানো, হাঁটতে না পারা এবং পরিচিতদের চিনতে না পারা।
  • রোগ নির্ণয়: চিকিৎসকদের মতে এটি ‘হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি’।
  • বিশেষজ্ঞ মত: ৩৫ শতাংশ শিশুর লিভারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে খাদ্যাভ্যাস ও অলস জীবনযাত্রার কারণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *