১৬ বছরের ছাত্রের প্রেমে পাগল শিক্ষিকা, তারপর এমন কিছু ঘটল যে মামলা গড়াল আদালত পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সিই কিং হাই স্কুলে এক নারী শিক্ষিকার আচরণে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের প্রেমে পড়ে হিতাহিত জ্ঞান হারান ওই শিক্ষিকা। জানা গেছে, ক্যাটরিনা ম্যাক্সওয়েল নামের ওই শিক্ষিকা কেবল শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনই নয়, বরং ছাত্রের প্রতি চরম অধিকারবোধ থেকেও এমন কিছু কাণ্ড ঘটিয়েছেন যা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই ছাত্র ও শিক্ষিকার সম্পর্কের তিক্ত এবং আইনি জটিলতার দিকটি প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রেমের আড়ালে প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ
ঘটনার সূত্রপাত হয় তখন, যখন ওই ছাত্রকে তার প্রেমিকার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে দেখেন ক্যাটরিনা। ঈর্ষায় অন্ধ হয়ে তিনি ওই ছাত্রের মাথা লক্ষ্য করে কাঁচি ছুড়ে মারেন। একজন শিক্ষিকার কাছ থেকে এমন হিংসাত্মক আচরণ দেখে সহকর্মীরা অবাক হয়ে যান। পরবর্তীকালে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, মার্চ-এপ্রিলের ছুটির সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন তিনি। পুলিশের কাছে ক্যাটরিনা স্বীকার করেছেন যে, নিজের গাড়ির পেছনের সিটে তিনি ওই ছাত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন।
আইনি ব্যবস্থা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
স্কুলের অন্য এক কর্মীর সন্দেহের ভিত্তিতেই বিষয়টি জেলা শিক্ষা প্রশাসনের নজরে আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তার সমস্ত অপরাধ কবুল করেছেন। এই ঘটনার পর অবিলম্বে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার এবং এ ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এই ঘটনাটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পবিত্র সম্পর্কে কালিমা লেপন করার পাশাপাশি কিশোর অপরাধ এবং সুরক্ষার বিষয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং ওই শিক্ষিকার কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- টেক্সাসের সিই কিং হাই স্কুলের শিক্ষিকা ক্যাটরিনা ম্যাক্সওয়েল ১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দায়ে অভিযুক্ত।
- ছাত্রকে তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখে হিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষিকা তার মাথায় কাঁচি ছুড়ে মারেন।
- তদন্তে শিক্ষিকা নিজের গাড়িতে ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন।
- বর্তমানে ওই শিক্ষিকা গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।