তৃণমূলের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতারের আশঙ্কা নিয়ে উত্তপ্ত আদালত, রাজ্যের সমর্থনে অস্বস্তিতে কমিশন

তৃণমূলের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতারের আশঙ্কা নিয়ে উত্তপ্ত আদালত, রাজ্যের সমর্থনে অস্বস্তিতে কমিশন

রাজ্যে ভোট আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০০ জন নেতা-কর্মীকে ‘সতর্কতামূলক আটক’ করার আশঙ্কায় দায়ের করা মামলার শুনানিতে নাটকীয় মোড় নিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানিতে তৃণমূলের আশঙ্কার সপক্ষে সওয়াল করে রাজ্য সরকার সাফ জানিয়েছে, রাজ্যে বর্তমানে এমন কোনও পরিস্থিতি নেই যেখানে গণহারে আগাম আটকের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আদালতের কাছে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে যে, অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের হাতে পৌঁছাল।

আদালতে আইনি লড়াই ও যুক্তি-পাল্টা যুক্তি

তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে প্রশ্ন তোলেন, কিসের ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মীদের ‘ট্রাবল মেকার’ বা অশান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? তাঁর দাবি, যথাযথ কারণ বা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের নির্দেশ ছাড়া এভাবে ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা অসাংবিধানিক। পাল্টা যুক্তি দিয়ে কমিশনের আইনজীবী জানান, গত নির্বাচনে রাজ্যে হওয়া ব্যাপক হিংসার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে গোপন নথির তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়ে কমিশন তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছে।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে অনড় রাজ্য

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে সওয়াল করেন যে, ‘ট্রাবল মেকার’ শব্দটি কোনও আইন বা দণ্ডবিধিতে নেই। ভারতের অখণ্ডতা বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলে এভাবে কাউকে আটক করা যায় না। রাজ্য পুলিশের ডিজির তরফেও জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধের রেকর্ড না থাকলে কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে পদক্ষেপ করা সম্ভব নয়। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল জবাব শেষে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছে।

এক ঝলকে

  • তৃণমূলের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতারের আশঙ্কায় করা মামলায় রাজ্য সরকার দলের পাশেই দাঁড়াল।
  • নির্বাচন কমিশনের গোপন তথ্য কীভাবে ফাঁস হলো, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
  • ব্যক্তিস্বাধীনতা বনাম অবাধ নির্বাচনের আইনি লড়াইয়ে আপাতত রায় স্থগিত রেখেছে হাই কোর্ট।
  • রাজ্য পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, গুরুতর অপরাধ ছাড়া কাউকে আগাম আটক করা আইনসম্মত নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *