রেকর্ড ভোটদানে বীরভূমে তৃণমূলের জয়ের হুঙ্কার অনুব্রতর

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচনে বীরভূমে রেকর্ড সংখ্যক ভোটদান ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বীরভূমে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়লেও, তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের দাবি এই হার অনেক জায়গায় ৯৬ থেকে ৯৮ শতাংশ স্পর্শ করেছে। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা টেনে তিনি জানান, তার জীবদ্দশায় এত বিপুল পরিমাণ স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদান তিনি আগে কখনও দেখেননি। এই উচ্চ হারকে শাসক দল তাদের অনুকূলে ‘জনজোয়ার’ হিসেবেই দেখছে।
তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস ও বিরোধীদের দাবি
ভোট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেছেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০টি আসন পাবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তার মতে, এবার ভোটারদের বুথমুখী করতে দলকে কোনো অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়নি, বরং মানুষ নিজেরাই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে জোড়াফুল শিবিরে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই উচ্চ হার দেখে জয়ের ব্যাপারে সমান আশাবাদী। তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির জবাব দিতেই ব্যালট বক্সে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের মতো স্পর্শকাতর জেলায় শান্তিতে এত বিপুল ভোটদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনুব্রত মণ্ডল এই পরিস্থিতিকে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের থাবা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের ধারণা, ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ততা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রতি আস্থা। এই বিপুল ভোট শতাংশ যদি সত্যিই শাসক দলের পক্ষে যায়, তবে বীরভূমসহ সংলগ্ন জেলাগুলোতে তৃণমূলের আধিপত্য আরও সুসংহত হতে পারে, যা বিরোধীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এক ঝলকে
- বীরভূমে প্রায় ৯৩ শতাংশের উপরে রেকর্ড ভোটদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
- নিজের রাজনৈতিক জীবনে এমন অভূতপূর্ব ভোট আগে দেখেননি বলে স্বীকারোক্তি অনুব্রত মণ্ডলের।
- রেকর্ড ভোটদানকে তৃণমূলের অনুকূলে ‘গণজোয়ার’ এবং বিরোধীদের জন্য অশনি সংকেত বলে দাবি শাসক দলের।
- ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল অধিকাংশ আসনেই জয়ী হবে বলে আত্মবিশ্বাসী বীরভূমের তৃণমূল নেতৃত্ব।