ডিএনএ টেস্টই শেষ কথা: শিশু নিজের না হলে রক্ষণাবেক্ষণের দায় নেই বিবাহিত পুরুষের, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের!

ডিএনএ পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো বিবাহিত পুরুষ সংশ্লিষ্ট শিশুর জন্মদাতা পিতা নন, তবে ওই শিশুর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতে তিনি আইনত বাধ্য নন। সম্প্রতি এক তাৎপর্যপূর্ণ মামলার রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কে সিং-এর বেঞ্চ দিল্লি হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়কে বহাল রেখে এক মহিলার করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যখন অকাট্য হয়, তখন তা আইনের সাধারণ অনুমানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

আইনি জটিলতা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রাধান্য

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের মাত্র এক মাস পরেই শিশুটির জন্ম হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায় যে ওই ব্যক্তি শিশুটির জৈবিক পিতা নন। ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা অনুযায়ী, বিবাহের সময় জন্ম নেওয়া শিশুকে সাধারণত বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এই ক্ষেত্রে আদালত জানিয়েছে, যেহেতু দুই পক্ষের সম্মতিতেই ডিএনএ পরীক্ষা হয়েছে এবং ফলাফলে কোনো দ্বিমত নেই, তাই এই বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের চিরাচরিত ধারণা কার্যকর হবে না। নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক তথ্যই এখানে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও শিশুর ভবিষ্যৎ

পিতৃত্বের দায় থেকে স্বামীকে অব্যাহতি দিলেও শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, আইনি লড়াইয়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে শিশুর জীবন যেন বিপন্ন না হয়। সেই লক্ষ্যে দিল্লি সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন শিশুটির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মতো মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা না থাকলেও শিশুর সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

এক ঝলকে

  • ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রমাণিত না হলে শিশুর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিতে স্বামী বাধ্য নন।
  • বৈজ্ঞানিক অকাট্য প্রমাণ আইনের সাধারণ আইনি অনুমানের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে।
  • দিল্লি হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টে মহিলার আবেদন ‘গুণমানহীন’ হিসেবে খারিজ।
  • মানবিক কারণে শিশুটির শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দেখভাল করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *