পুড়ছে বাংলা! তবে স্বস্তির খবর শোনাল হাওয়া অফিস; ধেয়ে আসছে ৬০ কিমি বেগে কালবৈশাখী

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে। এর ফলে আগামী শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের ৭টি জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া যথেষ্ট অস্থির থাকবে।
নিম্নচাপের প্রভাবে বজ্রঝড়ের সতর্কতা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে। বিশেষ করে ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলায় মাঝারি বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বর্ধমানের মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে দমকা হাওয়ার দাপট সবচেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৩০ এপ্রিল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ধাপে ধাপে কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
স্বস্তির বার্তা ও জনজীবনে প্রভাব
গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও বড় বদল আসতে চলেছে। আগামী দুই দিন আবহাওয়া উত্তপ্ত থাকলেও, পরবর্তী পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বৃষ্টির আগে পর্যন্ত আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে, যা ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবহাওয়া দফতর ঝড়ের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এক ঝলকে
- শনি থেকে বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা।
- ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে।
- আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
- নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও জলীয় বাষ্পের আধিক্যই এই অকাল বৃষ্টির প্রধান কারণ।