ভোটের ডিউটিতে বাস দিয়েও মেলেনি টাকা, ক্ষোভে ফুঁসছেন মালিকরা!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পরিবহণ সংকটের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম দফার ভোট শেষ হলেও নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত বেসরকারি বাসগুলোর জন্য বরাদ্দ অগ্রিম অর্থ এখনো হাতে পাননি মালিকরা। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দফায় দফায় আলোচনা এবং কমিশনের নির্দেশিকা সত্ত্বেও আর্থিক লেনদেনে এই চরম ঢিলেমি নিয়ে এখন সিইও অফিস ও পরিবহণ দফতরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন বাস মালিকদের একাংশ।
জেলায় জেলায় বৈষম্য ও অসন্তোষ
ভোটের কাজে বাস অধিগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন জেলার মধ্যে প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। কলকাতা, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ ও বালুরঘাটের মালিকরা এখনো কোনো অর্থ পাননি। অথচ হুগলি ও হাওড়া জেলায় কিছু ক্ষেত্রে অগ্রিম অর্থ মেটানো হয়েছে বলে খবর মিলেছে। একই রাজ্যে জেলাভেদে এই ভিন্ন আচরণকে ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বাস সিন্ডিকেট সংগঠনগুলো।
আর্থিক সংকট ও আগামীর শঙ্কা
বাসগুলো ভোটের কাজে আটকে থাকায় মালিকদের পকেট থেকেই শ্রমিকদের বেতন ও ইএমআই মেটাতে হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি বাস মালিকদের পক্ষে এই বিপুল আর্থিক বোঝা বহন করা এখন আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ২৬ তারিখ থেকেই বাসগুলোকে পুনরায় রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া না হলে আসন্ন দফার ভোট প্রক্রিয়ায় যানবাহন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত বেসরকারি বাসের অগ্রিম অর্থ না মেলায় মালিক মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
- কলকাতা ও নদিয়াসহ একাধিক জেলায় পাওনা বকেয়া থাকলেও কিছু জেলায় অর্থ মেটানো হয়েছে।
- শ্রমিকদের খোরাকি ও বাসের কিস্তি মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বাস মালিকরা।
- পাওনা না মিটলে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।