“পাঞ্জাবকে ঠকিয়েছে বিজেপি, ওই ৭ সাংসদ গদ্দার!”—দলবদলের ঝড়ে রণংদেহী মেজাজে ভগবন্ত মান

“পাঞ্জাবকে ঠকিয়েছে বিজেপি, ওই ৭ সাংসদ গদ্দার!”—দলবদলের ঝড়ে রণংদেহী মেজাজে ভগবন্ত মান

ভারতের পাঞ্জাব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় আম আদমি পার্টির (আপ) ১০ জন রাজ্যসভা সদস্যের মধ্যে ৭ জনই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেছেন। ২৪ এপ্রিল দিল্লিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাঘব চাড্ডা ও ড. সন্দীপ পাঠকসহ প্রভাবশালী এই নেতারা মোদী সরকারের নীতিতে সংহতি প্রকাশ করেন। আপ-এর এই অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে দলের অস্তিত্বের জন্য বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাস্তির হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক আক্রমণ

এই ঘটনার পরপরই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তিনি দলত্যাগীদের ‘পাঞ্জাবের গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, বিজেপি যে দলের সাথে জোট করে বা যাদের সংস্পর্শে আসে, তাদেরই ধ্বংস করে দেয়। তিনি জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন ২০২৭ সালের নির্বাচনে এই বিশ্বাসঘাতকদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হয়। আপ নেতাদের দাবি, এই নেতারা জনমতের অবমাননা করে নিজেদের স্বার্থে দলত্যাগ করেছেন।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের এই দলবদল পাঞ্জাবের রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রাঘব চাড্ডার মতো শীর্ষ নেতাদের চলে যাওয়া দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে ধস নামাতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার কৌশল নিচ্ছে। এই রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামী দিনে রাজ্যে তীব্র সংঘাত ও অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • আপ-এর ৭ জন রাজ্যসভা সংসদ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
  • মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এই ঘটনাকে পাঞ্জাবের জনগণের সাথে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
  • দলত্যাগীদের তালিকায় রাঘব চাড্ডা ও ড. সন্দীপ পাঠকের মতো প্রভাবশালী নেতারা রয়েছেন।
  • এই ভাঙন ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *