যাদবপুর নিয়ে মোদীর তোপ, ‘অপমান সইব না’ বলে পাল্টা গর্জন মমতার!

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার যাদবপুরের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে মেধা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রতিষ্ঠান ও মেধার অবমাননার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যা নিয়মিতভাবে জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম সারিতে থাকে। তিনি মনে করেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে লড়াই করে আসা শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা সেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জন করতে যায় না, বরং প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বড় হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে তিনি ‘অরাজকতা’ নয় বরং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন।
কেন্দ্রে বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ
পাল্টা আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসল অরাজকতা হলো কৃষকদের কণ্ঠরোধ করা, দরিদ্রদের অধিকার কেড়ে নেওয়া কিংবা সমাজকে ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভক্ত করা। তিনি মণিপুরের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে জানান যে, দেশ যখন প্রতিকূলতার মুখোমুখি, তখন সরকার কেবল নির্বাচনী রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। এই ধরনের ঐতিহাসিক এবং জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় পুষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত না করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
যাদবপুরকে ঘিরে এই দ্বৈরথ আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে বিজেপি যখন শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস একে বাংলার শিক্ষা ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
এক ঝলকে
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- মুখ্যমন্ত্রী যাদবপুরকে বাংলার মেধা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অরাজকতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
- প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।