হাতে মাত্র ৭ দিন! সেনেটের আইনি জালে ট্রাম্পের ‘ইরান জয়’-এর স্বপ্ন কি তবে অধরা?

হাতে মাত্র ৭ দিন! সেনেটের আইনি জালে ট্রাম্পের ‘ইরান জয়’-এর স্বপ্ন কি তবে অধরা?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য জয়ের পরিকল্পনা বড়সড় আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু ও তা অব্যাহত রাখার জন্য ৬০ দিনের মধ্যে সেনেটের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিলেও সময় ফুরিয়ে আসছে। আগামী ১ মে সেই ৬০ দিনের সময়সীমা পার হতে চলেছে, যার পর সেনেটের সবুজ সংকেত ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান চালানো ট্রাম্পের জন্য আসাম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ

১০০ সদস্যের মার্কিন সেনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩ হলেও ট্রাম্পের নিজের দলের অন্তত ১০ জন সেনেটর এই যুদ্ধের ঘোর বিরোধী। এর সাথে ৪৭ জন ডেমোক্র্যাট সদস্যের বিরোধ যুক্ত হওয়ায় প্রস্তাব পাসের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এছাড়া, এই যুদ্ধ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সাফল্য না আসায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় খোদ মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলেই প্রশ্ন উঠেছে।

আইনি মারপ্যাঁচ ও ট্রাম্পের বিকল্প

সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প অতিরিক্ত ৩০ দিনের একটি মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন, তবে এরপর যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত চাপ আসবে। অতীতে ওবামা বা খোদ ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নজির রাখলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনেটকে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ১ মের আগে যুদ্ধ বন্ধ করা অথবা সেনেটের তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়া ছাড়া হোয়াইট হাউসের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।

এক ঝলকে

  • মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ জারি রাখতে ১ মের মধ্যে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন ট্রাম্পের।
  • রিপাবলিকান দলের ১০ জনের বেশি সেনেটর ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরোধিতা করছেন।
  • যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
  • অনুমোদন না পেলে ট্রাম্পের হাতে যুদ্ধ বন্ধ করা অথবা সাময়িকভাবে ৩০ দিন মেয়াদ বাড়ানোর বিকল্প রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *