মায়ের আশীর্বাদেই মিলছে সরকারি চাকরি! বাঁকুড়ার এই মন্দিরে উপচে পড়ছে ভিড়, রহস্যটা কী?
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/22/bankuras-service-kali-2025-10-22-03-13-08.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
বর্তমান কর্মসংস্থানের বাজারে যখন চাকরির হাহাকার তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অলৌকিক বিশ্বাসে প্রতিনিয়ত ভিড় বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর ‘সার্ভিস কালী’ মন্দিরে। ভক্তদের দাবি, এখানে নিষ্ঠাভরে মানত করলে সরকারি থেকে বেসরকারি—যেকোনো ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের সুযোগ মিলছে। বিগত ৮৪ বছর ধরে স্থানীয়দের আস্থা অর্জনের পর এই মন্দিরের মাহাত্ম্য এখন দিল্লি ও বিহারসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বাস মালিকদের লাইসেন্স থেকে মন্দিরের নামকরণ
কথিত আছে, বহু বছর আগে এক বাস মালিক পরিবহণ লাইসেন্স না পেয়ে দিশেহারা হয়ে মন্দিরে মানত করেছিলেন। সেই আসাম্ভব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই দেবীর নাম ছড়িয়ে পড়ে সার্ভিস কালী হিসেবে। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর কাছে আন্তরিক প্রার্থনা করলে এক সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যায়। এমনকি বহু বেকার যুবক চাকরির পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের আগে এই মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে আসেন।
কৃতজ্ঞতায় অলংকারে ভরেছে দেবীর বিগ্রহ
আর্থিক মন্দা ও তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে এই মন্দিরের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়েছে। জনশ্রুতি আছে, একসময় দেবীর বিগ্রহে বিশেষ গহনা না থাকলেও এখন সফল চাকরিপ্রার্থীদের দানে মন্দিরটি ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে। কৃতজ্ঞ ভক্তরা চাকরি পাওয়ার পর দেবীকে অষ্টাঙ্গ গহনায় সাজিয়ে দিয়েছেন। প্রতি শনিবার এবং বিশেষ করে কালীপুজোর দিনে এখানে মানত করতে আসা মানুষের ঢল নামে।
সামাজিক প্রভাব ও বিশ্বাসের ভিত্তি
পেশাদার সাফল্যের এই অলৌকিক প্রচার মূলত বেকারত্বের অনিশ্চয়তা থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও প্রস্তুতির পাশাপাশি ঐশ্বরিক আশীর্বাদের ওপর নির্ভরতা মানুষকে মানসিকভাবে আশাবাদী করে তুলছে। বিজ্ঞান বা যুক্তি যা-ই বলুক না কেন, এই ধর্মীয় বিশ্বাস স্থানীয় অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলছে, তেমনি কর্মহীন যুবসমাজের কাছে সোনামুখীর এই মন্দির হয়ে উঠেছে পরম আশ্রয়ের স্থল।
এক ঝলকে
- বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে অবস্থিত ৮৪ বছরের প্রাচীন সার্ভিস কালী মন্দির।
- ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে মানত করলে দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি চাকরি পাওয়া যায়।
- একদা বাস পরিষেবার লাইসেন্স প্রাপ্তির ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই মন্দিরের নামকরণ হয়।
- চাকরি পাওয়ার পর কৃতজ্ঞ ভক্তদের দেওয়া দানেই বর্তমানে দেবীর বিগ্রহ স্বর্ণালংকারে ভূষিত।