ক্যামেরার সামনে ‘চিট কিস’, আড়ালে কুপ্রস্তাব! বলিউডের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের আসল সত্যি ফাঁস করলেন নেহাল

বলিউডে সাহসী বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’। সম্প্রতি এই পেশার খুঁটিনাটি এবং পর্দার আড়ালের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী ও ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর নেহাল ভাদোলিয়া। তার বয়ানে উঠে এসেছে শুটিং সেটে অভিনেতাদের সুরক্ষা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অজানা সব তথ্য।
সুরক্ষা ও সম্মতির গুরুত্ব
নেহাল জানান, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চিত্রনাট্য পাওয়ার পর থেকে শুটিং শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে অভিনেতাদের মানসিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হয়। বিশেষ করে নারী অভিনেত্রীরা অনেক সময় সরাসরি পরিচালকের কাছে পোশাক বা শরীরের প্রদর্শন নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটররা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। শুটিংয়ের আগে প্রতিটি দৃশ্যের জন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্মতির ভিডিও রেকর্ড করা হয় এবং চুক্তিতে উল্লিখিত শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।
কড়া নিয়ম ও শুটিংয়ের কৌশল
শুটিং ফ্লোরে নামার আগে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। নেহালের মতে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের আগে অভিনেতারা পেঁয়াজ, রসুন বা আমিষ খাবার খেতে পারেন না। মাউথ ফ্রেশনার বা সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং স্নান করে আসা আবশ্যিক। এমনকি চুম্বনের দৃশ্যেও থাকে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই ক্যামেরার বিভিন্ন কোণ ব্যবহার করে ‘চিট কিস’ বা কৃত্রিম দৃশ্য তৈরি করা হয়, যা পর্দায় বাস্তব মনে হলেও বাস্তবে তেমন কিছু ঘটে না।
এই পেশার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে নেহাল অভিযোগ করেন যে, পেশাদারিত্বের আড়ালে অনেক সময় নারী কর্মীদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। অভিজ্ঞ এই সমন্বয়কারীর অনুপস্থিতিতে শুটিং পিছিয়ে গেলে প্রযোজকদের বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমানে ওটিটি এবং আধুনিক চলচ্চিত্রে সাহসিকতার মাত্রা বাড়ায় এই ধরনের বিশেষজ্ঞদের চাহিদা ও বেতন দুই-ই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক ঝলকে
- শুটিং সেটে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটরের মূল কাজ।
- ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে নির্দিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
- পর্দার অনেক ঘনিষ্ঠ দৃশ্যই ক্যামেরার কারসাজি বা ‘চিট কিস’ পদ্ধতিতে ধারণ করা হয়।
- ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটররা সাধারণত সেশন প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন।