“১০ হাজার কোটির দুর্নীতির ৭৫ শতাংশই গেছে মমতার বাড়িতে!” ভবানীপুরে প্রচারে বেরিয়ে বোমা ফাটালেন শুভেন্দু
.jpeg.webp?w=948&resize=948,533&ssl=1)
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা, বর্ধমান ও হাবড়ার মোট ৯টি স্থানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তল্লাশি শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সক্রিয়তার মাঝেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন এবং সেই অর্থের সিংহভাগই পৌঁছেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে।
দুর্নীতির নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র
ইডি সূত্রের খবর, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ গমের অবৈধ পাচার রুখতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, সরবরাহকারী, ডিলার ও দালালদের একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সরকারি চিহ্নযুক্ত বস্তা বদলে ফেলে খোলা বাজারে গম বিক্রি করত। বসিরহাট পুলিশ স্টেশনে দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরেই পিএমএলএ আইনে এই তদন্ত প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের কেলেঙ্কারি শীর্ষস্তরের মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রভাব
নির্বাচনী আবহে শুভেন্দুর এই সরাসরি আক্রমণ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এর আগে হাবরার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ‘ক্লিনচিট’ দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, সিপিআইএম আমলের ভুয়া রেশন কার্ড ধরার কারণেই জ্যোতিপ্রিয়কে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ ও ইডি-র তৎপরতা ভোটারদের মনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দুর্নীতির অর্থের ভাগ পাওয়ার যে তত্ত্ব শুভেন্দু তুলে ধরেছেন, তা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- রেশন দুর্নীতি মামলায় শনিবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ মোট ৯টি জায়গায় ইডি-র চিরুনি তল্লাশি।
- জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
- দুর্নীতির ৭৫ শতাংশ অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পাঠানোর বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা।
- সরকারি গমের বস্তা বদলে খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে এই বিশাল কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে।