বাড়ি ফিরতেই গণধোলাই! ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে পলাতক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ১৯ মার্চের ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ওহিদুল ইসলামকে ঘিরে জনরোষ তৈরি হলো। দীর্ঘ কয়েক মাস গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় ওহিদুল নিজ এলাকায় ফিরতেই সাধারণ মানুষের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েন। গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এনআইএ-র নজরে ছিলেন এই নেতা। অভিযুক্তকে হাতের কাছে পেয়ে চক মরিচা তেতুলতলার ঘাট এলাকায় বাসিন্দারা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
উত্তেজিত জনতার হাত থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় ওহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশ। তাঁকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত নালমুড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র চালতা বেড়িয়া ও বামুনিয়া অঞ্চলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিস্ফোরণ কাণ্ডের নেপথ্যে তদন্ত
তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র দাবি, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ওহিদুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই মামলায় ইতিপূর্বে একটি চারচাকা গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই বাকি অভিযুক্তদের নাম উঠে আসে। আইএসএফ নেতাদের মতে, ওহিদুলই এই কাণ্ডের মূল হোতা এবং তিনি আইনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এই হামলার ঘটনায় এলাকায় যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে, তেমনই বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে ওহিদুলকে হেফাজতে নেওয়া এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ওহিদুল ইসলামকে এলাকা ফিরতেই গণধোলাই দিল স্থানীয়রা।
- গত ১৯ মার্চ বোমা বাঁধার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
- এনআইএ-র হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আজ এলাকায় ফিরতেই আক্রান্ত হন তিনি।
- জখম অভিযুক্ত পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।