“বিজেপির ‘ডাক্তার’ আদতে নেপালের কম্পাউন্ডার!” বসিরহাট থেকে পদ্ম-প্রার্থীকে নিয়ে অভিষেকের চরম তোপ

বসিরহাট দক্ষিণের নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শনিবার উত্তর গুলাইচণ্ডী ময়দানে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপি প্রার্থীর ‘ডাক্তার’ পরিচয়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পোস্টারে ডাক্তার লেখা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আসলে নেপালের একটি কম্পাউন্ডার ডিগ্রি রয়েছে, যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জ
বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্রের সমর্থনে আয়োজিত এই মেগা সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির বঞ্চনা নিয়ে সরব হন। আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা নিয়ে সরব হয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, বিজেপি যদি গত পাঁচ বছরে আবাসের জন্য কেন্দ্রের এক পয়সা দেওয়ার প্রমাণ দিতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। একইসঙ্গে বহিরাগত শক্তির বাংলা ও বাঙালিদের অপমানের চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া জবাব দেওয়ার ডাক দেন তিনি।
উন্নয়ন ও প্রতিবাদের বার্তা
বসিরহাটের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান, সাংসদ না থাকলেও তিনি নিজেই এই অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। ইছামতী সার উৎপাদন থেকে শুরু করে স্থানীয় আন্ডারপাসের দাবি নিয়ে সংসদে আওয়াজ তোলার আশ্বাস দেন তিনি। ধর্ম নয়, বরং রুটি-রুজি ও উন্নয়নের নিরিখে আগামী ২৯ তারিখ বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানান তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
এই অভিযোগের ফলে নির্বাচনের ঠিক মুখে বসিরহাটের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিল। প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ভোটারদের মনে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল এই কেন্দ্রে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে।
এক ঝলকে
- বিজেপি প্রার্থীর ডাক্তারি ডিগ্রিকে ‘ভুয়ো’ ও নেপালের ‘কম্পাউন্ডার’ ডিগ্রি বলে দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
- স্থানীয় উন্নয়ন ও আন্ডারপাসের দাবি নিয়ে আগামী দিনে সংসদে সরব হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
- বাঙালিদের অপমান ও অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে ২৯ তারিখ ভোট দিয়ে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।