“মমতার বাড়িতে কেন যায় না ইডি-সিবিআই?” শ্রীরামপুর থেকে সরাসরি ‘সেটিং’ তত্ত্ব উসকে দিলেন রাহুল গান্ধী!

“মমতার বাড়িতে কেন যায় না ইডি-সিবিআই?” শ্রীরামপুর থেকে সরাসরি ‘সেটিং’ তত্ত্ব উসকে দিলেন রাহুল গান্ধী!

শ্রীরামপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ‘সেটিং’ তত্ত্ব উসকে দিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল এবং কেন্দ্রে বিজেপি আসলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দেশের একাধিক রাজ্যে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সক্রিয় হলেও, বাংলায় দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ সত্ত্বেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ইডি বা সিবিআই যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন তিনি।

দুর্নীতি ও প্রশাসনিক যোগসাজশের অভিযোগ

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সারদা, রোজভ্যালি এবং কয়লা পাচারের মতো একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির খতিয়ান তুলে ধরেন রাহুল। তাঁর দাবি, বাংলায় সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করা হচ্ছে এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে শাসক দলের কর্মীরা। রাহুল আরও অভিযোগ করেন, মোদী যেমন দেশে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, তৃণমূল ঠিক সেই কাজটাই করছে বাংলায়। তাঁর মতে, দুই সরকারই সাধারণ মানুষের চেয়ে ধনী ও বড় শিল্পপতিদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত।

জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

নির্বাচনের মুখে রাহুলের এই আক্রমণ বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপির বিরোধিতা করায় তাঁর বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অথচ বাংলায় শাসক দলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর এই ‘নমনীয়’ অবস্থান আদতে গোপন সমঝোতারই বহিঃপ্রকাশ। এই বাগযুদ্ধ আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস-বাম জোটের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করবে এবং ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

রাহুলের দাবি, কংগ্রেস কর্মীরা বাংলায় আক্রান্ত হলেও বিজেপি ও তৃণমূল আসলে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতা বা ‘সেটিং’-এর গুরুতর অভিযোগ করলেন রাহুল গান্ধী।

বাংলায় পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি সত্ত্বেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইডি-সিবিআই জেরা করছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শ্রীরামপুরের সভা থেকে তৃণমূলের শাসনকে বিজেপি ও মোদীর নীতির সঙ্গে তুলনা করে আক্রমণ শানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *