সোহাগিনী হলেও সিঁদুর পরা বারণ! ভারতের এই গ্রামে মহিলারা কেন মাটিতে ঘুমান?

সোহাগিনী হলেও সিঁদুর পরা বারণ! ভারতের এই গ্রামে মহিলারা কেন মাটিতে ঘুমান?

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের ধামতরি জেলার সান্দবাহারা গ্রামে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে এক অবাস্তব ও বিস্ময়কর প্রথা। হিন্দু ধর্মে বিবাহিত নারীদের জন্য সিঁদুর ও অলঙ্কার পরা বাধ্যতামূলক মনে করা হলেও, এই গ্রামে তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যায়। এখানে বিবাহিত মহিলারা সিঁদুর পরতে পারেন না, এমনকি সাজগোজ করাও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। গ্রামের এই কঠোর নিয়মাবলি যুগ যুগ ধরে নারীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের শেকল

এই অদ্ভুত নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর অন্ধবিশ্বাস। গ্রামবাসীদের দাবি, বহু বছর আগে গ্রামের প্রধান স্বপ্নে দেবীর আদেশ পেয়েছিলেন যে, নারীরা সিঁদুর পরলে বা বিলাসিতা করলে গ্রাম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সেই থেকে আজও মহিলারা চেয়ারে বসতে পারেন না, এমনকি খাটে ঘুমানোর অধিকারও তাদের নেই। এছাড়া নারীদের জন্য গাছে ওঠা বা ধান কাটার মতো কৃষিকাজে অংশ নেওয়াও এই গ্রামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উন্নয়ন ও প্রতিবাদের অভাব

নকশাল প্রভাবিত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এই গ্রামে আধুনিক শিক্ষার আলো সেভাবে পৌঁছাতে পারেনি। রেবতী মারকাম নামে স্থানীয় এক নারী এই প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও গ্রামবাসীর অনড় মনোভাবের কারণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বহিরাগতদের সাথে কথা বলতে অনিচ্ছুক এই জনপদের মহিলারা গোপনে এই নিয়ম অপছন্দ করলেও, সামাজিক ও ধর্মীয় রোষের ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

এক ঝলকে

  • ছত্তিশগড়ের সান্দবাহারা গ্রামে বিবাহিত নারীদের সিঁদুর পরা ও সাজগোজ করা নিষিদ্ধ।
  • মহিলারা চেয়ারে বসতে বা বিছানায় ঘুমাতে পারেন না এবং তাদের কৃষিকাজেও বাধা রয়েছে।
  • কয়েক প্রজন্ম আগের এক ‘দৈব স্বপ্নের’ দোহাই দিয়ে এই নিয়মগুলো টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
  • ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে এই জনপদে আধুনিক সংস্কার আজও পৌঁছায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *