নাসিক টিসিএস কাণ্ডে নয়া মোড়: বোরখা পরা থেকে নাম বদল, তরুণীকে মালয়েশিয়া পাঠানোর ছক ছিল নিদার?

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস (TCS) কার্যালয়ে তরুণী কর্মীকে যৌন হেনস্থা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগে এবার আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সোমবার নাসিক আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী অজয় মিশ্র জানান, এই ঘটনার জাল মালেগাঁও থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) দাবি করেছে, মূল অভিযুক্ত নিদা খান ওই তরুণীর মগজধোলাই করে তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে নামাজ পড়া, হিজাব ও বোরখা পরার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর নাম বদলে ‘হানিয়া’ রাখার ছক কষা হয়েছিল।
চাকরির প্রলোভন ও নথিপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত দানিশ শেখ ওই তরুণীর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত নথিপত্র হাতিয়ে নিয়েছিলেন। অভিযোগ, ‘ইমরান’ নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই তরুণীকে ভালো চাকরির টোপ দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করার পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। তরুণীর ফোন থেকে ইসলাম সংক্রান্ত প্রচুর ভিডিও, অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা, যা পরিকল্পিত ধর্মান্তকরণের প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পলাতক নিদা ও আইনি জটিলতা
বর্তমানে নিদা খান পলাতক থাকায় তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে সরকারি আইনজীবী জানান, নিদা বাইরে থাকলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, নিদার আইনজীবী দাবি করেছেন যে মহারাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মান্তর বিরোধী আইন নেই এবং বাস্তবে কোনো ধর্মান্তর ঘটেনি। তবে আদালত অভিযুক্তকে কোনো সুরক্ষা দেয়নি। এই ঘটনার পেছনে কোনো বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন বা আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- নাসিকের টিসিএস অফিসে তরুণীকে ধর্মান্তকরণের চেষ্টায় নিদা খানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক প্রমাণ।
- নাম পরিবর্তন, ধর্মীয় পোশাক পরা ও নামাজ শিক্ষার মাধ্যমে তরুণীর মগজধোলাইয়ের অভিযোগ।
- নথিপত্র কেড়ে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের ছক এবং বড় কোনো আর্থিক চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে সিট।
- অভিযুক্ত নিদা খানের আগাম জামিন নাকচ এবং পরবর্তী শুনানি ২ মে।