সন্ত্রাসবাদ দমনে মোদীর ‘জিরো টলারেন্স’! ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বড় বয়ান রাজনাথ সিংয়ের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে কতটা কঠোর, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ‘অপারেশন সিঁদুর’। শনিবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘শৌর্য’ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর মতে, ভারতীয় সেনার এই সফল অভিযান দেশের সামরিক ইতিহাসের পাতায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অপারেশন সিঁদুর ও সেনার বিক্রম
গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে হওয়া জঙ্গি হামলার জবাবে ৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। এই সুনির্দিষ্ট অভিযানের লক্ষ্য ছিল নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে থাকা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া। টানা চার দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর ১০ মে সামরিক সমঝোতার মাধ্যমে এই অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটে। রাজনাথ সিং জানান, ‘সবার আগে দেশ’—এই মন্ত্রকে পাথেয় করেই আমাদের জওয়ানরা পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের যোগ্য জবাব দিয়েছে।
বীরত্ব ও মানবিকতার মেলবন্ধন
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সৈনিকদের দেশপ্রেম ও ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় সেনার বীরত্ব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও তাঁরাই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ান। বিপদের সময় অস্ত্র দিয়ে সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রয়োজনে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এদিনের অনুষ্ঠানে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং-সহ শীর্ষ সামরিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একতার সুর ও সেনার মনোবল
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ব্যান্ড ও কুচকাওয়াজের গুরুত্ব তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, কুচকাওয়াজের গান বা ব্যান্ডের সুর কেবল বিনোদনের জন্য নয়, এটি প্রতিটি সৈনিকের ব্যক্তিগত সত্তাকে এক সুতোয় গেঁথে একটি অজেয় যৌথ শক্তিতে পরিণত করে। মূলত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো সাফল্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের কঠোর অবস্থানের বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।