হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপি এজেন্টের বাড়ির সামনে সাদা থান! গণনার আগে ‘মৃত্যুর হুমকি’ ঘিরে হুলুস্থুল

৪ মে মহাগণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে দেখা দিল চরম উত্তেজনা। হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৪৩ নম্বর বুথের বিজেপি এজেন্ট কঙ্কন বৈদ্যের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হলো একটি সাদা থান কাপড়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির সরাসরি শাসক দল তৃণমূলের দিকে।
রাতের অন্ধকারে রহস্যময় বান্ডিল
বিজেপি সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দুষ্কৃতী কঙ্কনবাবুর বাড়ির দোরগোড়ায় কালো প্লাস্টিকে মোড়া একটি বান্ডিল ফেলে দিয়ে যায়। রবিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে ওই রহস্যময় প্যাকেটটি দেখতে পান। প্লাস্টিক খুলতেই দেখা যায়, ভেতরে ভাঁজ করা একটি নতুন সাদা থান কাপড়। গ্রামবাংলার লোকজ বিশ্বাসে সাদা থান কাপড় সাধারণত শোক বা মৃত্যুর প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কঙ্কনবাবুর পরিবার ও এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ ও ‘হুমকি’ তত্ত্ব
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি, গণনার আগের দিন তাদের বুথ এজেন্টদের মনোবল ভেঙে দিতেই এই কুরুচিকর পথ বেছে নিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, “গণনাকেন্দ্রে বিজেপি এজেন্টদের উপস্থিতি রুখতেই এই মরণ-হুমকি দেওয়া হয়েছে।” তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল হার নিশ্চিত বুঝেই এখন খুনের রাজনীতি এবং অপয়া প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে ভয় দেখাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
বাংলার রাজনীতিতে সাদা থান বা কাফনের কাপড় পাঠিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনা বিরল নয়। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে বা গণনার আগে বিরোধীদের গৃহবন্দি রাখতে এই ধরণের কৌশল নেওয়া হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। হিঙ্গলগঞ্জের এই ঘটনা সেই তিক্ত রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছেছে পুলিশ। কে বা কারা ওই বান্ডিলটি ফেলে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘বিজেপির সাজানো নাটক’ বলে পাল্টা দাবি করেছে। গণনার দিন এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী।
৪ মে-র মেগা ফলাফলের আগে হিঙ্গলগঞ্জের এই ‘সাদা থান’ রহস্য ইভিএম খোলার উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।