রাত পোহালেই ফল, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্র!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আগামী কাল, সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে চলা এই মহাগণনাকে ঘিরে গোটা রাজ্যকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—দুই দফায় অনুষ্ঠিত ২৯৪টি আসনের ভোট গণনার জন্য আগে ৮৭টি কেন্দ্রের কথা ভাবা হলেও, বর্তমানে ৭৭টি কেন্দ্রে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি এবং কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নজরদারি জারি করা হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
শান্তিপূর্ণ গণনা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রথম স্তরে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং বাইরের অংশে স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন থাকছে। ভবানীপুর থেকে শুরু করে বাঁকুড়া বা চুঁচুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর ২০০ মিটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, ফলে সেখানে যেকোনো ধরণের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চন্দননগর ও অন্যান্য এলাকায় মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে স্ট্রংরুমের সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করে নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
গণনার আগে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। একদিকে যেমন বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ করছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মতো প্রধান দলগুলো তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে এবং বহরমপুরের মতো কেন্দ্রগুলোতে শীর্ষ নেতারা গণনার কৌশল নিয়ে বৈঠকে বসেছেন। এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ইভিএম-এর সুরক্ষা বজায় রাখা এবং গণনার সময় বা পরবর্তী সময়ে কোনো ধরণের রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রতিহত করা।