কমিশনের মদতে ‘ভোট চুরি’, আসাম ও বাংলায় কারচুপির অভিযোগে সরব রাহুল গান্ধি

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, তখনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। সোমবার নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের মদতে বিজেপি আসাম ও বাংলায় পরিকল্পিতভাবে ‘ভোট চুরি’ করেছে। এই বিষয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা অভিযোগের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন।
মমতার সুরেই সুর মেলালেন রাহুল
বাংলার ফলাফল নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে রাহুল গান্ধি লিখেছেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিজেপির ভোট চুরির জলজ্যান্ত উদাহরণ হলো আসাম ও বাংলা। আমরা মমতাজির লড়াইকে সমর্থন করি। কেবল বাংলাতেই ১০০-র বেশি আসন চুরি করা হয়েছে।” রাহুলের এই সমর্থন জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের সংহতিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি?
রাহুল তাঁর পোস্টে আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এই ধরণের ‘প্রতিষ্ঠানগত চুরি’ আগেও করেছে। তাঁর কথায়, “এই কৌশল আমরা আগেও মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দেখেছি। ভোট চুরি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দখলদারি—এভাবেই বিজেপি জনমতকে অগ্রাহ্য করছে।” তাঁর প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের রায়ের যদি কোনও দামই না থাকে, তবে বিকল্প আর কী উপায় পড়ে রইল?
জাতীয় রাজনীতিতে ঝড়
ফল প্রকাশের দিন রাহুলের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী দলনেতার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তোলা নিয়ে গেরুয়া শিবির এখনও পর্যন্ত কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে আসাম ও বাংলার ভোট নিয়ে রাহুলের এই সরব হওয়া আগামী দিনে দিল্লিতে বিরোধী জোটের আন্দোলনের সুর বেঁধে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।