রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা, আসানসোল থেকে নন্দীগ্রাম আক্রান্ত তৃণমূলের একাধিক কার্যালয়

নির্বাচনী ফলপ্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা। আসানসোল থেকে নন্দীগ্রাম—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে আসছে। গণনার প্রবণতা স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই শুরু হওয়া এই অশান্তি সোমবার রাত গড়াতেই চরম আকার ধারণ করেছে।
আসানসোল থেকে বীরভূম রণক্ষেত্র
অশান্তির সূত্রপাত হয় শিল্পাঞ্চল আসানসোল থেকে। এরপর দ্রুত সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সোনাচূড়া, চুরুলিয়া, পানুরিয়া ও বারাবনিতে। অভিযোগ, এই এলাকাগুলোতে তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলো লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয় এবং পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বীরভূমের সদাইপুর, কীর্ণাহার ও দুবরাজপুরের মতো এলাকা থেকেও দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর মিলছে। জেলাজুড়ে শাসক দলের একাধিক কার্যালয় এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আক্রান্ত কলকাতার জনপ্রতিনিধির কার্যালয়
কলকাতার বুকেও আছড়ে পড়েছে এই রাজনৈতিক হিংসার ঢেউ। শহরের ১০ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কসবা ও সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির দপ্তরে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
জেলায় জেলায় ছড়াচ্ছে অশান্তি
কেবল কলকাতা বা শিল্পাঞ্চল নয়, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, রঘুনাথগঞ্জ এবং নবদ্বীপেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের গ্রামীণ এলাকায় তৃণমূলের ছোট-বড় একাধিক দলীয় কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক জায়গায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় জমায়েত হটাতে কাঁদানে গ্যাসও প্রয়োগ করতে হয়েছে প্রশাসনকে।
উত্তপ্ত জেলাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচন পরবর্তী এই হিংসা রুখতে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পালা চলছে যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যেই। তৃণমূলের দাবি, ফলপ্রকাশের পর পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আপাতত উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রতিবেদক বর্তমান ঠাকুর