তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস, নেপথ্যে কি বাম-কংগ্রেস পুনরুত্থান?

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের ট্রেন্ড শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক অশনিসংকেত বয়ে এনেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে তৃণমূলের ‘নিশ্চিত আমানত’ হিসেবে ধরা হতো, তাতে বড়সড় ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, ঘাসফুলের এই ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ এবার বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর দিকে ঝুঁকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফলাফলে।
মুর্শিদাবাদ ও মালদহের সমীকরণ বদল
রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদে এবার বড় চমক দেখা গিয়েছে। জেলার ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টি মুসলিম-প্রধান হলেও সেখানে তৃণমূলের একাধিপত্যে থাবা বসিয়েছে বাম-কংগ্রেস জোট। ডোমকলে সিপিএম এবং ফরাক্কা ও রানিনগরে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় প্রমাণ করছে যে, সংখ্যালঘু ভোট এবার ভাগ হয়েছে। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের মতো নির্দল বা আঞ্চলিক শক্তির উত্থান তৃণমূলের ভোট কাটাকাটিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। এছাড়া, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ নাম বাদ পড়াও শাসকদলের জয়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালদহতেও গনি খান পরিবারের প্রভাবে কংগ্রেস নিজের শক্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা তৃণমূলের আসন প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।
ভোট বিভাজনের প্রভাব ও বিরোধী শক্তির উত্থান
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এই ভাঙনের ফলে কেবল যে বাম-কংগ্রেস লাভবান হয়েছে তা নয়, পরোক্ষভাবে সুবিধা পেয়েছে বিজেপিও। নন্দীগ্রাম বা বীরভূমের মতো জায়গায় সংখ্যালঘু ভোট আইএসএফ বা বামেদের দিকে সরে যাওয়ায় হিন্দু ভোটের মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে, যা পদ্ম শিবিরকে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে সাহায্য করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বা উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা, আমডাঙার মতো এলাকাতেও তৃণমূলের ‘সুদ-আসলে’ ভোট পাওয়ার হিসেবে গরমিল দেখা গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুরেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে; সেখানে সংখ্যালঘু ভোট শাসকদলের ঝুলিতে না গিয়ে বিনিয়োগ হয়েছে বাম ও কংগ্রেসের বাক্সে। এই বহুমুখী লড়াইয়ের ফলে তৃণমূলের সাজানো বাগান কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে অনেক আসনেই।