এবার কি বিরোধী আসনেই বসবেন বিমান? স্পিকারের দপ্তর ছেড়ে দিলেন তিনি

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার পর আজ এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিধানসভা চত্বর। সোমবারের নির্বাচনী ফলাফলে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত হতেই মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় নিজের দপ্তর ছাড়লেন বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ব্যবহারের ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ছবি গুছিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ভোটের ময়দানে হার-জিত থাকবেই। তবে বিধায়ক হিসেবে আবারও বিধানসভায় আসব।”
ক্ষমতার রদবদল ও ব্যক্তিগত সৌজন্য
সোমবারের ফলাফলে দেখা গেছে, ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৮০টি আসন। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক পরের দিনই বারুইপুর পশ্চিমের নবনির্বাচিত বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় উপস্থিত হন। সেখানে কর্তব্যরত আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। এরপর নিজের জন্য বরাদ্দ দপ্তরটি খালি করে দিয়ে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। টানা তিনবারের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এভাবে দপ্তর ছেড়ে বিদায় নেওয়া রাজ্য রাজনীতির এক বিশেষ ইঙ্গিতবাহী অধ্যায়।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন লড়াই
২০১১ সাল থেকে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রটি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত। এবারও তিনি সেই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন। তবে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় চতুর্থবারের মতো স্পিকারের আসনে বসা আর সম্ভব হচ্ছে না তাঁর পক্ষে। দীর্ঘ সময় শাসক দলের প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকারের চেয়ার সামলালেও এবার তাঁকে দেখা যাবে বিরোধী বেঞ্চে। বিদায়বেলায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দায়িত্বের স্থান পরিবর্তন হলেও বিধানসভার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। একজন বর্ষীয়ান বিধায়ক হিসেবেই তিনি আগামী দিনে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তাঁর এই প্রস্থান রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জলজ্যান্ত চিত্র হিসেবে উঠে এসেছে।