ইস্তফা দেবেন না মমতা, বাংলার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছে সংবিধান?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না। সচরাচর নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া একটি প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতি হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থানে আইনি ও সাংবিধানিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে পরবর্তী সরকার গঠন পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ইস্তফা ও সাংবিধানিক জটিলতা
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোটে পরাজয়ের পর রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়া একটি দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক শিষ্টাচার। ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরপরই রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, তিনি হার স্বীকার করছেন না এবং ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানে এমন পরিস্থিতির সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই কারণ পরাজিত হয়েও কেউ ইস্তফা দেবেন না, তা অতীতে ভাবা হয়নি। তবে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। নিয়ম অনুযায়ী, ইস্তফা না দিলেও ওই দিন পার হওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং তিনি ‘প্রাক্তন’ হিসেবে গণ্য হবেন।
নতুন সরকার গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা
বিজেপি নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করলেও শপথগ্রহণের দিনক্ষণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এমতাবস্থায়, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন সরকারের শপথের মধ্যবর্তী সময়ে একটি প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে।
সাধারণত এই সময়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই ‘তদারকি’ বা কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সেই দায়িত্ব গ্রহণেও অনাগ্রহী থাকেন, তবে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সংস্থান থাকলেও, সাধারণত নতুন দল সরকার গঠনের দাবি জানালে তার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করা নতুন সরকার গঠনে আইনি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, তবে তা ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে এক বিতর্কিত নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।