মমতার অভিযোগ ভিত্তিহীন, ভবানীপুরের গণনা নিয়ে সাফ জানালেন সিইও

হাই-ভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগণনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা কারচুপি ও হেনস্থার অভিযোগকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, গণনাকেন্দ্রে কোনো নিয়মভঙ্গ হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ছিল।
অভিযোগ ও পাল্টা যুক্তি
সোমবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে এবং পরবর্তীকালে সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর কিছু অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, গণনার কয়েক রাউন্ড পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকে ‘১৭-সি’ ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি খোদ তাঁকে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ধাক্কাধাক্কি ও অপমান করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি, গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবিও তোলেন তৃণমূলনেত্রী।
কমিশনের কড়া অবস্থান
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এই সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানান, গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্য কোনো প্রমাণে এ ধরনের ঘটনার সত্যতা মেলেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কমিশনের নিয়ম মেনেই প্রতিটি রাউন্ডের গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক ত্রুটি ছিল না। তৃণমূল প্রার্থীর হেনস্থার শিকার হওয়ার দাবিটিকে তিনি ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পেতে তিনি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট তলব করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থানের ফলে ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনার বৈধতা নিয়ে ওঠা বিতর্ক ভিন্ন মাত্রা পেল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো অনিয়মের চিহ্ন নেই। তবে কমিশনের এই সাফাইয়ের পর শাসকদলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।