“চেম্বার থেকে বেরিয়ে যাও!” সিজেআই সূর্যকান্তের ধমকেই বদলে গিয়েছিল জীবন, সুপ্রিম কোর্টে ফাঁস সেই গোপন গল্প

কেরিয়ারের শুরুতে হোঁচট খেলেও আইনজীবী হিসেবেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, নিজের জীবনের এক অজানা গল্প শুনিয়ে এই বার্তাই দিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত। শুক্রবার দিল্লি বিচার বিভাগীয় পরিষেবা পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে এক নারী আইনজীবীর করা আবেদন খারিজ করার সময় আবেগঘন এই স্মৃতিচারণ করেন তিনি। প্রধান বিচারপতির জীবনের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এখন আইনি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ব্যর্থতা নয় বরং নতুন পথের দিশা
১৯৮৪ সালের স্মৃতি হাতড়ে প্রধান বিচারপতি জানান, আইনের ছাত্র থাকাকালীন তাঁর স্বপ্ন ছিল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা হওয়া। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভা দিতে গিয়ে তিনি এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সেই সময়ের এক সিনিয়র বিচারক তাঁকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। শুরুতে একে অপমান মনে করলেও পরে সেই বিচারকই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিচারক হওয়ার বদলে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে। সেই পরামর্শ মেনে নিয়েই আজ তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক আসনে আসীন হয়েছেন।
আবেদনকারীর প্রতি ইতিবাচক বার্তা
আবেদনকারী আইনজীবী প্রেরণা গুপ্তা যখন তাঁর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে অনড় ছিলেন, তখন প্রধান বিচারপতি তাঁকে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর পরামর্শ দেন। তিনি বোঝাতে সক্ষম হন যে, একটি পরীক্ষার ফলাফলই জীবনের শেষ কথা নয়। বিচারপতির এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পের পর আবেদনকারী হাসিমুখেই আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার চেয়ে একজন আইনজীবীর মেধা ও ধৈর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এক ঝলকে
- দিল্লি জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন খারিজ করলেন সিজেআই সূর্যকান্ত।
- নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে জানান, বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও আইনজীবী হিসেবে তিনি সফল হয়েছেন।
- তরুণ আইনজীবীদের হতাশ না হয়ে পেশাদারিত্বে মন দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।
- ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীকে ইতিবাচক মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ করাকে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।