‘এখন সমালোচনার সময় নয়, শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা’, রবীন্দ্রনাথকে সাক্ষী রেখে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘এখন সমালোচনার সময় নয়, শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা’, রবীন্দ্রনাথকে সাক্ষী রেখে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বাংলার মসনদে আসীন হলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডে শপথগ্রহণের পর তাঁর প্রথম গন্তব্য ছিল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। সেখানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রশাসনিক সফর শুরু করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারে এই বিশেষ দিনটিকে শপথগ্রহণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগামী দিনে বাংলা ও বাঙালির চেতনা কবিগুরুর আদর্শেই পরিচালিত হবে।

ঐক্য ও উন্নয়নের বার্তা

দায়িত্ব গ্রহণের পরই আক্রমণাত্মক রাজনীতির বদলে সংযম ও কর্তব্যের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক সমালোচকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে তিনি জানান, এখনকার সময়টি গঠনমূলক কাজের, কাদা ছোড়াছুড়ির নয়। তাঁর মতে, যারা সমালোচনা করছেন তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, কিন্তু তিনি এখন দলমতনির্বিশেষে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক

বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির বর্তমান অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ‘নবনির্মাণ’-এর ডাক দিয়েছেন। ডঃ শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে পাথেয় করে তিনি জানান, বাংলার হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার। “চরৈবতি” মন্ত্রকে সম্বল করে কোনো বাধা বা সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প ফুটে ওঠে তাঁর বক্তব্যে। রাজ্যের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে ব্রিগেডে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • শপথগ্রহণের অব্যবহিত পরেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরুর চরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারি কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।
  • সমালোচনার জবাব না দিয়ে বরং রাজ্যের শিক্ষা ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলার ‘নবনির্মাণ’-এর অঙ্গীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছায় এই বিশেষ দিনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *