চন্দ্রনাথ খুনের ৭২ ঘণ্টা: বিকল সিসিটিভি-র ফাঁসে তদন্ত, পুলিশের মাথাব্যথা ‘রহস্যময়’ লাল গাড়ি!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও এখনও অধরা দুষ্কৃতীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ কার্যত অন্ধকারের মধ্যেই হাতড়াচ্ছে, কারণ আততায়ীদের পালানোর পথের অধিকাংশ সিসিটিভি ক্যামেরাই দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। দোহারিয়া-মাঠপাড়া সংলগ্ন যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে খুনিরা পালিয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে, সেখানে কার্যকর কোনো নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তকারীরা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
তদন্তকারী দলের একাংশের মতে, ঘটনার দিন বুধবার রাতে মাঝরাস্তায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি আটকে গুলি চালানোর পর দুষ্কৃতীরা মোটরবাইকে করে পেয়ারাবাগানের গলিপথ দিয়ে এলাকা ছাড়ে। কিন্তু মাঠপাড়া ও তৎসংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর বেহাল দশা পুলিশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কোথাও ক্যামেরা খারাপ, আবার কোথাও ক্যামেরার মুখ ভিন্ন দিকে ঘোরানো। এমনকি স্থানীয় দোকানের ক্যামেরাগুলি থেকেও বিশেষ কোনো সূত্র মেলেনি, কারণ রাতের বেলা অধিকাংশ দোকানই বন্ধ ছিল।
তদন্তে নয়া মোড় লাল গাড়ির রহস্যে
সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের স্পষ্ট ছবি না মিললেও একটি রহস্যময় লাল রঙের গাড়ি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, বিরাটি মোড় থেকে যশোর রোড ধরে চন্দ্রনাথ রথের স্করপিও গাড়িটিকে ক্রমাগত অনুসরণ করছিল একটি লাল গাড়ি। দোহারিয়া এলাকায় প্রবেশের সময়ও সেটিকে ঠিক পিছনেই দেখা গিয়েছে। পুলিশের অনুমান, এই গাড়িটিই হয়তো আততায়ীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছিল বা ‘রেকি’র কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে এই লাল গাড়িটির সন্ধানেই তল্লাশি চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। আততায়ীরা সম্ভবত আগে থেকেই জানত কোন কোন এলাকার ক্যামেরা বিকল এবং কোথায় অন্ধকার বেশি। সেই সুযোগ নিয়েই তারা রাতের অন্ধকারের অপেক্ষা করেছিল যাতে পালানোর সময় বাইকের নম্বর প্লেট বা মুখ কোনোভাবেই শনাক্ত করা না যায়। সিসিটিভি ফুটেজের অভাব তদন্তের গতি কমিয়ে দিলেও পুলিশ এখন টাওয়ার ডাম্প প্রযুক্তি এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে খুনিদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করছে। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও মূল অভিযুক্তরা ধরা না পড়ায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।