হাইপারসনিক যুদ্ধের পথে ভারত, ১২০০ সেকেন্ডের ইঞ্জিন পরীক্ষায় ইতিহাস গড়ল ডিআরডিও

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বিশ্বশক্তি হওয়ার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র অধীনে থাকা হায়দরাবাদের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL) তাদের তৈরি ‘অ্যাক্টিভলি কুলড ফুল স্কেল স্ক্র্যামজেট কম্বাস্টার’-এর দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ৯ মে, ২০২৬ তারিখে হায়দরাবাদের বিশেষ টেস্ট ফ্যাসিলিটিতে এই ইঞ্জিনটি একটানা ১২০০ সেকেন্ড বা ২০ মিনিট ধরে চালানো হয়, যা হাইপারসনিক মিসাইল তৈরির পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশীয় প্রযুক্তির জয়গান ও কারিগরি দক্ষতা
এবারের সফল পরীক্ষার মূলে রয়েছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুপারসনিক এয়ার-ব্রিদিং ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ তরল হাইড্রোকার্বন এন্ডোথার্মিক ফুয়েল। ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এতে প্রয়োগ করা হয়েছে অত্যাধুনিক থার্মাল ব্যারিয়ার কোটিং এবং উন্নত উৎপাদন প্রক্রিয়া। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একই ধরনের একটি পরীক্ষায় ৭০০ সেকেন্ড পর্যন্ত ইঞ্জিনটি সচল ছিল। এবারের ১২০০ সেকেন্ডের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ভারত এখন দীর্ঘ সময় ধরে হাইপারসনিক গতি বজায় রাখতে সক্ষম ইঞ্জিন তৈরিতে দক্ষ।
প্রতিরক্ষায় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত এই কৃতিত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের ফলে ভারতের হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল উন্নয়ন কর্মসূচি এক মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেল। হাইপারসনিক মিসাইল শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যেতে সক্ষম, যা বর্তমান বিশ্বের যেকোনো রাডার বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।
উল্লেখ্য, এই স্ক্র্যামজেট পরীক্ষার ঠিক এক দিন আগেই ওড়িশার ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তি সম্বলিত উন্নত অগ্নি মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করেছিল ডিআরডিও। একের পর এক এই কৌশলগত সাফল্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।