বিনা নোটিশে ফোন-ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন! বিজেপির বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসের’ অভিযোগ তুলে গর্জে উঠলেন মমতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার পরিস্থিতি। শনিবার কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কালীঘাটে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ শুরু হয়েছে এবং বিনা নোটিশে তাঁর ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ও সেলুলার পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে বাম, অতি-বাম এবং অ-বিজেপি ছাত্র সংগঠনগুলোকে একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
পরি পরিষেবা বিড়ম্বনা ও নিরাপত্তার সংকট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই গত পরশু থেকে তাঁর মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপকে শিষ্টাচারহীন বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসন বর্তমানে নিষ্ক্রিয় এবং বহিরাগতদের দ্বারা তাঁর ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।
আইনি লড়াই ও জাতীয় স্তরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা
নির্বাচনী ফলাফলকে ‘বেআইনি’ হিসেবে দাবি করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না। সোনিয়া গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে এবং অখিলেশ যাদবের মতো জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভির মতো দুঁদে আইনজীবীদের সহায়তায় আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের মোকাবিলায় ‘২১শে জুলাই বেনিভোলেন্ট ফান্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেন তিনি।
এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিষেবা বিচ্ছিন্নের ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রবীন্দ্রনাথের আদর্শকে সামনে রেখে মমতার এই ‘যৌথ মঞ্চ’ গঠনের আহ্বান মূলত বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলোকে একটি ছাতার তলায় এনে প্রতিরোধ গড়ে তোলারই ইঙ্গিত।