“বিকেল ৫টা বাজলেই ফোন বন্ধ!” নেদারল্যান্ডসের অফিস কালচার দেখে তাজ্জব ভারতীয় তরুণী, ভিডিও ভাইরাল

ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের এক অনন্য কর্মসংস্কৃতি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেখানে কর্মরত অদিতি নামের এক ভারতীয় তরুণীর শেয়ার করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি ডাচদের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বা ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ নিয়ে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অদিতির মতে, নেদারল্যান্ডসে কাজ এবং ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে এক অত্যন্ত স্বচ্ছ ও দৃঢ় বিভাজন রেখা বিদ্যমান।
কাজের সময় নিষ্ঠা এবং ছুটির পর পূর্ণ স্বাধীনতা
অদিতি তার ভিডিওতে জানান, নেদারল্যান্ডসের মানুষ কর্মঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। কাজের সময় তারা পূর্ণ মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বিকেল ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানকার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। অফিস ছুটির পর কর্মীরা অফিসের কাজ থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে নেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সহকর্মীরা ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দিতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখেন। বিকেল ৫টার পর অফিসের কোনো ইমেল, মিটিং বা কাজের চাপ তারা পরিবারের ওপর পড়তে দেন না।
মানসিক স্বাস্থ্য ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রভাব
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নেদারল্যান্ডসের এই সুস্থ কর্মসংস্কৃতি কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং ব্যক্তিগত সুখ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ডাচ নাগরিকরা পরিবার, বন্ধু, স্বাস্থ্য এবং মানসিক শান্তিকে কাজের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্ব দেন না। এই জীবনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তাদের কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিপরীতে, ভারতে যেখানে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং ছুটির পরেও কাজের চাপের সংস্কৃতি বিদ্যমান, সেখানে অদিতির এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই উন্নত কর্মপরিবেশের প্রশংসা করছেন এবং নিজেদের দেশেও এমন ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন। এই ভাইরাল হওয়া বার্তাটি মূলত বর্তমান আধুনিক কর্পোরেট বিশ্বে ব্যক্তিগত সময়ের গুরুত্বকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।