শপথের পরেই ফুল ফর্মে শুভেন্দু! আজই জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের নিয়ে মেগা বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজ, ১১ মে সোমবারই তিনি রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে প্রথম মেগা প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা খতিয়ে দেখা।
আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক রদবদল
শনিবার শপথ গ্রহণের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সারেন। সেই বৈঠকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনাই নতুন সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা সুব্রত গুপ্তকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ করে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ঐতিহ্যের মহাকরণে ফিরছে সচিবালয়
নতুন সরকারের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো রাজ্য সচিবালয়কে নবান্ন থেকে পুনরায় ঐতিহ্যের রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পিডব্লিউডি কর্তাদের মহাকরণ সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এছাড়া, আগের সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছেন তিনি, যা আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচিত হতে পারে।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পটভূমি
প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শগত অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ২০ জুন তারিখটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলার মণীষীদের বাড়ি ও তীর্থস্থানগুলো নতুন করে সংস্কার করা হবে। সব মিলিয়ে প্রথম দিন থেকেই এক আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে পথ চলা শুরু করল অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।