ডিএমকের হাত ছেড়ে বিজয়ের জোটে কংগ্রেস, তামিল রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতার সুর চড়ালেন মোদী

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে নয়া সমীকরণের হাওয়া। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ডিএমকের হাত ছেড়ে অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK)-এর সঙ্গে কংগ্রেসের হাত মেলানোকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার হায়দরাবাদের জনসভা থেকে এই ইস্যুতেই কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি কংগ্রেসের এই অবস্থান পরিবর্তনকে ডিএমকের প্রতি চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
পুরনো সঙ্গীকে ত্যাগ ও সুবিধাবাদী রাজনীতির অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কংগ্রেসের অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০১৪ সালের আগে টানা দশ বছর কেন্দ্রে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার মূলত ডিএমকের সমর্থনেই টিকে ছিল। যে দল কঠিন সময়ে কংগ্রেসকে দিল্লির ক্ষমতা ধরে রাখতে নিঃস্বার্থ সাহায্য করেছে, রাজনীতির হাওয়া সামান্য বদলাতেই তাদের ছুড়ে ফেলে দেওয়াকে তিনি রাজনৈতিক নীতিহীনতা বলে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ডিএমকে নিরন্তর কংগ্রেসের মঙ্গলের জন্য কাজ করে গেলেও ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস তাদের সঙ্গে অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ করল।
জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ও সম্ভাব্য মেরুকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর এই পটপরিবর্তন ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজয়ের অভাবনীয় সাফল্যেরই ফল। ডিএমকে ও কংগ্রেস একত্রে ভোটে লড়লেও ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের এই আকস্মিক ‘ডিগবাজি’ জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ মূলত দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি কৌশলী চাল। অন্যদিকে, এই রদবদল তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক স্তরে এবং জাতীয় স্তরের বিজেপি-বিরোধী জোটের ভেতরেও ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, চেন্নাই থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনীতির অলিন্দে এখন কংগ্রেসের এই নয়া সমঝোতা এবং মোদীর তীক্ষ্ণ বাণই প্রধান আলোচনার বিষয়।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।