মাউন্ট ডুকোনোয় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের কাছেই প্রাণ হারালেন তিন পর্যটক

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতের জেরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং একজন স্থানীয় ইন্দোনেশীয় পর্বতারোহী। রবিবার আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখের মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যে তাঁদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন উদ্ধারকারীরা। এই ঘটনায় পর্যটন ও পর্বতারোহণ মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উদ্ধারকার্যে প্রকৃতি ও ছাইয়ের বাধা
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় মোট ২০ জন পর্বতারোহী অবস্থান করছিলেন। অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ার পরপরই ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজনকে বাঁচানো যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত এবং আগ্নেয়গিরি থেকে ক্রমাগত গরম ছাই ও পাথর নির্গত হওয়ার ফলে উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মৃতদেহগুলি এখনো পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার অভিযান স্থগিত রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিপজ্জনক মাত্রায় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে অন্যতম এই মাউন্ট ডুকোনো। গত কয়েকদিন ধরেই এটি ছাই ও ধোঁয়া উদ্গিরণ করছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি থাকা সত্ত্বেও পর্বতারোহীরা কেন জ্বালামুখের এত কাছে পৌঁছেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকায় পর্যটন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাউন্ট ডুকোনোর বর্তমান আচরণ অত্যন্ত অনিশ্চিত, যা উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের জন্যও বড় ধরনের প্রাণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।