তৃণমূলে বিদ্রোহের আবহ, দলবদল নিয়ে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় জয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা চরমে উঠেছে। দলের পরাজয়ের দায় নিয়ে নিচুতলা থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব—পরস্পরকে আক্রমণ শানাচ্ছেন জোড়াফুল শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট নেতা। ইতিমধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে শাস্তির মুখে পড়তে হলেও দলের অন্দরে ‘বিদ্রোহের’ আগুন নেভার কোনো লক্ষণ নেই। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল ও গণবিক্ষোভ
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের অব্যবহিত পরেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এবং নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। দলের অভ্যন্তরীণ এই ডামাডোলে অনেক নেতাকর্মীই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া ব্যবস্থা নিলেও অসন্তোষ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। এই ভাঙনের সুযোগে অনেকেই এখন বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজ শুরু করেছেন।
দিলীপের ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বার্তা ও আগামীর সমীকরণ
তৃণমূলের এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। তবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন চাইলেই যে কেউ বিজেপিতে নাম লেখাতে পারবেন না। তাঁর মতে, যারা দল বদলে আসার চেষ্টা করছেন, তাদের প্রত্যেককে গ্রহণ করা হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে দিলীপ ঘোষ আসলে ‘ছেঁটে বাছাই’ করার বার্তা দিয়েছেন এবং সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের জন্য গেরুয়া শিবিরের দরজা যে আপাতত অবারিত নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই অনমনীয় অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।