অভিষেককে নিশানা করে বিস্ফোরক কোহিনুর, মমতা সরকারকে ফেলার নেপথ্যে কি তবে ঘরোয়া চক্রান্ত?

অভিষেককে নিশানা করে বিস্ফোরক কোহিনুর, মমতা সরকারকে ফেলার নেপথ্যে কি তবে ঘরোয়া চক্রান্ত?

রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত এবার প্রকাশ্যে এল এক নজিরবিহীন অভিযোগে। দল থেকে সদ্য সাসপেন্ড হওয়া মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, আরজি কর হাসপাতালের নক্কারজনক ঘটনার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সংকটে ফেলতে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নেপথ্য থেকে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আরজি কর আন্দোলন ও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ

কোহিনুর মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, যখন গোটা রাজ্য আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে উত্তাল ছিল, তখন সেই আন্দোলনকে হাতিয়ার করে দলের ভেতরেই সমান্তরাল চক্রান্ত চলছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গদিচ্যুত করার লক্ষ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাঠি নেড়েছিলেন। অর্থাৎ, বাইরের আন্দোলনের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরির পেছনেও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছেন এই বহিষ্কৃত নেতা। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি অন্তর্ঘাতের অভিযোগ সাম্প্রতিককালে শোনা যায়নি।

কসবা ল কলেজ বিতর্ক ও সামাজিক মাধ্যমে চাপ

বিস্ফোরক এই দাবির পাশাপাশি কোহিনুর মজুমদার একটি নির্দিষ্ট ঘটনারও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, কসবা ল কলেজের একটি অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে তাঁর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই পোস্ট মুছে ফেলার জন্য তাঁকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। কোহিনুরের এই বয়ান যদি সত্যি হয়, তবে তা দলের অন্দরে বাক-স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার রাশ কার হাতে ছিল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের আমলে এই ধরণের অভিযোগ তৃণমূলের জন্য আরও অস্বস্তি বাড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *