এক বৈঠকে একগুচ্ছ বদল: রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত ও জনগণনা নির্দেশ কার্যকর করছে শুভেন্দু সরকার

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ও প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারের এই বৈঠকে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার দলতন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান মেনে ‘সুশাসন ও সুরক্ষা’র পথে চলবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রসার
রাজ্যের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়ে সরকারি চাকরির আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সেভাবে নিয়োগ না হওয়ায় বহু প্রার্থীর বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আয়ুষ্মান ভারতসহ প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, পিএমশ্রী এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে না, তবে সেগুলি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কারে কঠোর অবস্থান
সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে দীর্ঘদিনের জমি জট কাটিয়ে বিএসএফ-কে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া, রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) কার্যকর করার পাশাপাশি আমলাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রথা পুনরায় চালু করা হচ্ছে। গত বছর থেকে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের জনগণনা সংক্রান্ত নির্দেশিকাও কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সংবিধান ও দেশের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল। নিহত রাজনৈতিক কর্মীদের পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশের পাশাপাশি আগামী সোমবার পরবর্তী বৈঠকে আরজি কর কাণ্ড ও বেতন কমিশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।